রাজধানীতে দুই শিশু ধর্ষণের শিকার

Published: Sat, 11 Jan 2020 | Updated: Sat, 11 Jan 2020

অভিযাত্রা ডেস্ক : রাজধানীর ভাটারায় এক শিশুকে তুলে নিয়ে রাতভর ধর্ষণের ঘটনায় চার কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শিশুটির মা বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন বলে জানিয়েছেন ভাটারা থানার ওসি মোক্তারুজ্জামান।

তিনি শনিবার (১১ জানুয়ারি) জানান, আসামিদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ভাটারার সোলমাইথ এলাকায় বাবা-মার সঙ্গে থাকে ১১ বছরের শিশুটি। পাশেই ফাসেরটেক এলাকায় তার মা এক বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিশুটি ওই বাসায় তার মায়ের কাছে গিয়েছিল। মা তাকে ওই বাড়ির বাইরে ১০ মিনিট দাঁড়াতে বলার পর বেরিয়ে এসে আর পাননি।

গত শুক্রবার সকালে ফাসেরটেকের একটি রাস্তার পাশ থেকে অসুস্থ অবস্থায় মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়। তখন সে ধর্ষিত হওয়ার কথা জানায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনে ভর্তি করে।

তাকে পরীক্ষা করে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ জানিয়েছেন।

ওসি মোক্তারুজ্জামান বলেন, ‘শিশুটির বর্ণনা অনুযায়ী তার মা আমাদের বলেছেন, চারজন ১৫/১৬ বছরের ছেলে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে।’

কামরাঙ্গীরচরে ধর্ষণে তিনজনের জবানবন্দি, একজন রিমান্ডে : এদিকে, রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে এক কিশোরীকে (১৩) গণধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেফতার তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হলেন- হাসান, সিফাত ও সবুজ।

শনিবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম মিল্লাত হোসেন তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। অন্যদিকে আসামি রনিকে আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠুতদন্তের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মিল্লাত হোসেন একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এছাড়া ধর্ষিতার বান্ধবীকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করলে ঢাকা মহানগর হাকিম মিল্লাত হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসলি হেমায়েত উদ্দিন হিরোন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত শুক্রবার দুপুরে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

কামরাঙ্গীরচর থানার ওসি এ বি এম মশিউর রহমান বলেন, গণধর্ষণে যে বান্ধবী সহায়তা করেছিল তাকেসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের আনুমানিক বয়স ১৪-১৫ বছর। একজন পলাতক রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার চারজন ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কামরাঙ্গীরচরের পূর্ব রসুলপুর এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে ওই কিশোরীকে গণধর্ষণ করা হয়। কাছেই একটি এলাকায় বসবাস করা ওই কিশোরীকে গত শুক্রবার বিকেলে তার বান্ধবী বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়।

বান্ধবীর সহায়তায় কিশোরীটিকে ধর্ষণ করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয় পুলিশ। ওই ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন। এরপর পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে মাঠে নামে। ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।

এসএ/