৪২ বছরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কেমন বিশ্ববিদ্যালয় দেখতে চায় শিক্ষার্থীরা?

Published: Sat, 21 Nov 2020 | Updated: Sat, 21 Nov 2020

আজাহার ইসলাম, ইবি : ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়ে নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ৪১ বছর পূর্ণ করলো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। স্বাধীনতা পরবর্তী দেশে স্থাপিত প্রথম এই বিদ্যাপীঠে প্রতিবছর জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপিত হয় বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। করোনা মহামারির কারণে এবছর থাকছেনা উল্লেখযোগ্য আয়োজন। ৪২তম বছরে পা রাখা এই ১৭৫ একরের সবুজ ক্যাম্পাসকে আগামীতে কেমন দেখতে চায় শিক্ষার্থীরা। কয়েকজন শিক্ষার্থীর মতামত তুলে ধরেছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আজাহার ইসলাম।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন সময়ের দাবি:
Sakinবিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে গবেষণানির্ভর ও ব্যবহারিক পাঠদানের ক্ষেত্রগুলো আরো বৃদ্ধি প্রয়োজন। শহরের সাথে ক্যাম্পাসের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি বাসেরসংখ্যা বৃদ্ধি জরুরি। অদূর ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে আরও সুস্থ রাজনীতি ও ছাত্রনেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন এখন সময়ের দাবি। সর্বোপরি বাহ্যিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সম্মিলিতভাবেই শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকলকেই ভবিষ্যতের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আবির্ভূত করার জন্য কাজ করে যাবে এই প্রত্যাশা।

তাজুল ইসলাম সাকিন
আইন বিভাগ

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের গতিশীলতার অব্যাহত থাকুক:
himuউন্নত গ্রাজুয়েট সৃষ্টিতে এই বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করে যাচ্ছে নিরলস ভাবে। সেশনজট মুক্ত থেকে শুরু করে অসাম্প্রদায়িক গ্রাজুয়েট তৈরিতে এই বিদ্যাপীঠের কার্যক্রম অব্যাহত থাকুক। বিগত ৩/৪ বছরে ইবিতে যে পরিবর্তন, সেশন জট নিরসন, বিভাগের পাঠ্যক্রমে গতিশীলতা এসেছে তা অব্যহত থাকুক। পাশাপাশি ইবির মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করে একটি ডিজিটাল ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা হোক। তেমনি ছাত্র সংসদ থেকে হলের আবাসিক সংকট  দূর হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাক দুর্বার গতিতে। এটাই ৪২ এর চাওয়া।

শৈবাল নন্দী হিমু
ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ

 

বিশ্ববিদ্যালয়কে আবাসন সংকটমুক্ত দেখতে চাই:
nurইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিকীকরনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সেই ধারা অব্যাহত রেখে শিক্ষা-গবেষণার মান বৃদ্ধি করে দেশ ও দেশের বাইরে রোল মডেল হিসেবে দাঁড়াবে এই প্রত্যাশা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে আবাসিক উল্লেখ থাকলেও আবাসন সংকটমুক্ত হয়নি এখনো। আগামীর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে এমন জায়গায় দেখতে চাই যেখানে আবাসন সংকট থাকবে না, গেস্টরুম কালচার থাকবে না, র‍্যাগিং থাকবে না, ছাত্রদের ভিন্নমত লালন করবে, সাংস্কৃতিক প্রোগামে জোর দিবে, সান্ধ্য কোর্স বন্ধ হবে, শিক্ষকদের দলীয় রাজনীতি বন্ধ হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকব।

নুর উদ্দীন
অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড ক্যামিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ

 

প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ্যের স্বকীয়তা বজায় থাকুক:
hazariইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুন প্রতিষ্ঠার লক্ষে বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে একটি ইসলামী বিদ্যাপীঠ স্থাপনের উদ্যোগ অনেক পুরনো। আর সেই উদ্যোগের ফলস্বরূপ ইসলামী শিক্ষার উন্নতি  সাধনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামী বিশ্বিবিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এটিই দেশের সর্বোচ্চ ইসলামী বিদ্যাপীঠ। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালীন মূল লক্ষ্যের উপরে সুপ্রতিষ্ঠিত থাকুক। তার গৌরব দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে মাথা উঁচু করে অবস্থান গ্রহণ করুক বিশ্ব মানচিত্রে। শিক্ষা, গবেষণা, শিক্ষা সহায়ক কার্যক্রম ও স্বীয় স্বকীয় গুণাবলীতে দেশে-বিদেশে সর্বত্রই অনন্য হয়ে উঠুক আমাদের প্রাণের ইবি।

নেছার আহমদ হাজারী
দা‘ওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ

 

পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, ল্যাব স্থাপন করা সময়ের দাবি:
Akhiবিশ্ববিদ্যালয় হলো বিশ্বমানের বিদ্যালয়। সবুজ শ্যামলে ঘেরা প্রাণের এই বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাক নতুন উদ্যমে। ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের শিক্ষা ও গবেষণার বিষয়ে মনোনিবেশ করার সুযোগ তৈরী করা প্রয়োজন। এছাড়া নতুন বিভাগ খোলার চেয়ে যেসব বিভাগ রয়েছে তাদের অগ্রগতি, শ্রেণিকক্ষ, পর্যাপ্ত ল্যাব স্থাপন করা সময়ের দাবি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় যেনো কোন দিক থেকে পিছিয়ে না যায়। ক্যাম্পাসের সকল অনিয়ম, দুর্নীতি বন্ধ করে আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে  আধুনিককরণে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে এই প্রত্যাশা।

আরোশি আঁখি
ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ

 

 

/এসিএন