বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হলেন শাহজাহান

অভিযাত্রা ডেস্ক : শিক্ষার্থীদের প্রবল আন্দোলনে অধ্যাপক খোন্দকার নাসিরউদ্দিন গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদ ছাড়ার পর এক সপ্তাহ পর অধ্যাপক মো. শাহজাহানকে ভারপ্রাপ্ত উপচার্যের দায়িত্ব দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ইলেক্ট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইটিই) বিভাগের অধ্যাপক শাহজাহানকে গত সোমবার এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এখনও নতুন ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তাই সিনিয়র শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহানকে ভারপ্রাপ্ত উপচার্যের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভিসির রুটিন কাজগুলো তিনি দেখবেন।’

এ বিষয়ে অধ্যাপক শাহজাহান বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে এসএমএসের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আগামীকাল (আজ বুধবার) হয়তো চিঠি হাতে পাব।’

একটি ফেইসবুক পোস্টের জন্য গত ১১ সেপ্টেম্বর একটি দৈনিকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ও আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে সময়িক বহিষ্কার করার পর উপাচার্য নাসিরের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যেই ওই শিক্ষার্থী ও উপাচার্যের কথোপকথনের একটি অডিও ভাইরাল হয়। তাতে দেশজুড়ে উপাচার্যের সমালোচনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে তার বিরুদ্ধে আন্দোলনও জোরদার হয়।

বিক্ষোভের মুখে ১৮ সেপ্টেম্বর ওই শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তারপরও উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখে। আন্দোলন ঠেকাতে ২১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেন উপাচার্য। শিক্ষার্থীরা তার প্রতিবাদ করলে একদল বহিরাগত হামলা চালিয়ে অন্তত ২০ জনকে আহত করে। ওই হামলার জন্য উপাচার্যকে দায়ী করে পদত্যাগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন সহকারী প্রক্টর।

এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি তদন্ত দল গোপালগঞ্জ ঘুরে গিয়ে উপাচার্যের পদ থেকে অধ্যাপক নাসিরকে সরিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করে। এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাস ছাড়েন অধ্যাপক নাসির। পরদিন তিনি পদত্যাগ করলে শিক্ষার্থীরাও আন্দোলন স্থগিত করে।

অধ্যাপক মো. শাহজাহানকে ভারপ্রাপ্ত উপচার্যের দায়িত্ব দেওয়ার খবরে স্বস্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কল্যাণ কুমার মিত্র বলেন, “উনার প্রধান দায়িত্ব হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশের পাশাপাশি অধিকার নিশ্চিত করা। সেইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো শনাক্ত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া।’

এসএ/