দিনাজপুর হাবিপ্রবিতে রেজিষ্ট্রার পদ নিয়ে অসন্তোষ

Published: Wed, 14 Oct 2020 | Updated: Wed, 14 Oct 2020

মোঃআব্দুস সাত্তার, দিনাজপুর : দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)-তে এবার রেজিষ্ট্রার পদ নিয়ে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে রেজিস্টার পদে মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষককে সরিয়ে রাজাকারের সন্তানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। যদিও সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজিষ্ট্রার জানিয়েছেন তার বাবা রাজাকার না। 

বিশেষ পরিস্থিতিতে রেজিষ্ট্রারের দায়িত্ব নেয়ায় কেউ ক্ষুন হয়ে এসব করাচ্ছে । রাজাকারের সন্তান কে রেজিষ্ট্রার পদে দায়িত্ব দেয়ার প্রতিবাদে এবং মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষককে পূনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে ছাত্রলীগ।

এদিকে রেজিষ্ট্রারের দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ার ৬ দিন অতিবাহিত হলেও নিরাপত্তাহীনতার কারণে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন সদ্য নিয়োগ প্রাপ্ত রেজিষ্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ রাজিব হাসান। নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন তিনি। 

গত ৬ অক্টোবর গুরুত্বপুর্ণ প্রশাসনিক পদে নিয়োজিত ১৭ জন শিক্ষক উপাচার্যর বাসভবনে দেখা করতে যান। কিন্তু ওই সময়ে উপাচার্য তাদের সাথে দেখা করেননি। এই ঘটনায় উপাচার্যের অসহযোগিতায় একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে অচলাবস্তা সৃষ্টির অভিযোগ এনে ১৭ জন শিক্ষক তাদের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন। 

এই অবস্থায় গত ৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অফিস আদেশে অতিরিক্ত পদে দায়িত্বরত মেডিসিন সার্জারি অ্যান্ড অবস্টেট্রিক্স বিভাগের প্রফেসর ডা. ফজলুল হককে রেজিষ্ট্রারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় এবং অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর মোহাম্মদ রাজিব হাসানকে রেজিষ্ট্রারের দায়িত্বে নিযুক্ত করা হয়। তবে নিযুক্ত হওয়ার পরপরই অধ্যাপক মোহাম্মদ রাজিব হাসানের বাবা আলী আজম মাষ্টার একজন রাজাকার ছিলেন বলে কথা উঠে। 

এমন ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদ গত ১১ অক্টোবর অধ্যাপক মোহাম্মদ রাজিব হাসানকে একজন স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী রাজাকারের সন্তান বলে অভিযোগ এনে সংগঠন থেকে তাকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। 

শুধু তাই নয় একই দিনে ওই পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. ফাহিমা খানম ও সাধারন সম্পাদক প্রফেসর ডাঃ ফজলুল হক স্বাক্ষরিত এক নিন্দা বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‌‌‌‘রেজিষ্ট্রার পদে এহেন নেক্কারজনক নিয়াগে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি চরম অবজ্ঞার সামিল। বিবৃতিতে প্রফেসর রাজিব হাসানকে রেজিষ্ট্রার হিসাবে নিয়াগের তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন ও প্রফেসর ডাঃ মো: ফজলুল হককে পুনরায় রেজিষ্ট্রার হিসাবে পুর্নবহালের দাবী জানাচ্ছি’।

জানা যায়, এর আগে অধ্যাপক মোহাম্মদ রাজিব হাসান ওই শিক্ষক পরিষদের উপদেষ্টা এবং গত ২০১৯ সালর ১৩ অক্টোবর এই পরিষদের অনুষ্ঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

কিছুদিন আগেও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়র ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা শাখার পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সময় তার বিরুদ্ধ এমন কোন অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি। কিন্তু রেজিষ্ট্রারের পদে নিযুক্ত হওয়ার পরই তার বিরুদ্ধ এমন অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।

এদিকে গত ২৩ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবাধে বিশ্বাসী গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত একটি পত্র উপাচার্যকে দেয়া হয়। যেখান উল্লেখ করা হয় যে এই পরিষদের লিখিত মতামতগুলো মূল্যায়ন না করে উপাচার্য অবজ্ঞা ও অবহেলা করছেন শুরু থেকই পরিষদের শিক্ষকরা উপাচার্যকে সাধ্যমত সহযোগিতা করে আসছে। তাই বর্তমান উপাচার্যর মেয়াদকাল সময়ের মধ্যে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করাসহ ৫টি দাবি জানানো হয়। 

গত ৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়র উপাচার্য প্রফেসর ড. মু. আবুল কাশমের সাথে কথা হলে তিনি বলেছিলেন, ‘যেসব অভিযোগ এনে ১৭ শিক্ষক কর্মবিরতি শুরু করেছিলেন সেসব অভিযোগ মিথ্যা। মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়াগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা দ্রত সেই নিয়োগ দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। নিয়োগকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক কার্যক্রমে ব্যাঘাতসহ নানান কথা ছড়ানো হচ্ছে’। 

অপরদিকে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ব্যানারে প্রায় ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। 

এ ব্যাপারে সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত রেজিষ্ট্রার ডা. ফজলুল হক বলেন, ‘প্রতিকুল পরিবশে আমি প্রশাসনকে সহায়তা করেছি, এখন আমাকে সরিয়ে একজন রাজাকার সন্তান কে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে । আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, আমার দু:খ যে আমার চেয়ারে একজন রাজাকারের সন্তান বসবে’। 

এ ব্যাপার নবনিযুক্ত রেজিষ্ট্রার প্রফেসর মোহাম্মদ রাজিব হাসান বলেন, ‘আমার বাবা একজন সম্মানীয় ব্যক্তি ছিলেন তিনি মারা গেছেন তারপরও তার বিরুদ্ধে কথা বলা হচ্ছে। আমি অত্যন্ত মনোকষ্ট নিয়ে দিনযাপন করছি। রেজিষ্ট্রারের দায়িত্ব পেলেও অফিসে যেতে পারছি না। আমার নিরাপত্তার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই নিশ্চিত করতে হবে’। 

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়র উপাচার্য ড. মু. আবুল কাশমের মোবাইলে বারবার যোগাযাগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তার কার্যালয়ে যাওয়া হলেও সেখান তাকে পাওয়া যায়নি। 

/এসিএন