অনলাইন শিক্ষায় পিছিয়ে পড়ছে ‘গরীব’ পঞ্চগড়ের মেধাবীরা 

Published: Wed, 14 Oct 2020 | Updated: Wed, 14 Oct 2020

সাইদুজ্জামান রেজা, পঞ্চগড় : করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারির কারণে গত মার্চ মাস থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার পর মে মাস থেকেই পঞ্চগড়ের  বিভিন্ন স্কুল, কলেজে অনলাইনে শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু করেছে। তবে অনলাইনে পড়ানোর কারণে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে বলে জানা যায়।

শিক্ষার্থীরা জানায়, স্মার্ট ফোন, ল্যাপটপ ও কম্পিউটার কেনার সামর্থ্য না থাকার কারণে অনেকেই ক্লাস করতে পারছে না, ক্লাস করলেও শিক্ষকদের লেকচার বুঝতে ও শুনতে পারছে না । কিন্তু এক্ষেত্রে শহরের শিক্ষার্থীদের তেমন কোন সমস্যা হচ্ছে না বলেও জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

ফুটকীবাড়ী এলাকার সা'দ নামের সরকারি বালক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর জানায়, ‘ফেসবুক লাইভ ব্যবহার করে শিক্ষকরা তাদের ক্লাস নিচ্ছেন। আমার স্মার্ট ফোন নাই, আর নেওয়ার সামর্থ্যও নাই। আমি কি করব? সবসময় সবার কাছে মোবাইলের জন্য হাত পাতা যায় না।’

সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী মৃদুলা জানায়, ‘আমার স্মার্ট ফোন নাই। নিতেও পারিনা। কিভাবে অনলাইন ক্লাস করব। পড়া থেকে অনেক পিছিয়ে পড়েছি।’

অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উন্নতমানের হলেও সেখানকার সব শিক্ষার্থীরা অবস্থা সম্পন্ন পরিবার থেকে আসে না। বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনও সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশের ছাত্রছাত্রীরা লেখাপড়া করে। অনলাইনে পাঠদানের ক্ষেত্রে তাদের কথা সবার আগে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। অনলাইন ক্লাসে কারও আপত্তি থাকার কথা নয় কিন্তু শিক্ষার্থীদের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট ভালোভাবে বিচার করে দেখা উচিত। অনেকের তো স্মার্ট ফোন, ল্যাপটপ কেনার সামর্থ্যই নেই। ইন্টারনেট তো দূরের কথা। তাদের জন্য অনলাইন শিক্ষা আকাশের চাঁদের মতো। 

অভিভাবকরা জানান, আমাদের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা বড়লোকদের পক্ষে। যাদের টাকা আছে, তারা ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখার সুযোগ পায়। এখন সন্তানের পেছনে যত টাকা ঢালা যায়, ততোই তাদের দক্ষ-যোগ্য করে গড়ে তোলা যায়। কাজেই যাদের টাকা আছে, তারা অনেক বেশি যোগ্য-দক্ষ হওয়ার সুযোগ পায়। তেমনি একটি অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা। টাকা যার শিক্ষা তার। 

বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য সারা দেশের ন্যায় পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার্থে  অব লাইনে ক্লাশ চালিয়ে যাচ্ছে। 

পঞ্চগড় জেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পঞ্চগড় বি পি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের  প্রধান শিক্ষক জোবায়ের ইসলাম বলেন, ‘আমরা করোনার পর থেকেই অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছি। যাদের স্মার্ট ফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার নাই—দরিদ্র পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের বিষয়ে জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট চিঠি লিখতে চেয়েছেন।’

অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থায় পিছিয়ে পড়া গরীব মেধাবীদের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘আমরা প্রথম তিন মাস টেলিভিশনে দেখিয়েছি, এখন অনলাইনসহ সংসদ টেলিভিশনে দেখানো হচ্ছে।’

ও/এসএ/