আলফাডাঙ্গার তিন ইউনিয়নে আ’লীগের সম্মেলন

আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা : ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী আলফাডাঙ্গা ইউনিয়ন, বুড়াইচ ইউনিয়ন ও টগরবন্দ ইউনিয়নে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 

বেলা সাড়ে ১১ টায় আলফাডাঙ্গা ইউনিয়নের সম্মেলন ইউনিয়নের মহিষারঘোপ বাজারে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন, আলফাডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. রওশন মিয়া। পরিচালনা করেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সোহেল চৌধুরী আহাদ। সম্মেলনে মো. রওশন মিয়াকে সভাপতি ও হাবীবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

বেলা সাড়ে তিনটায় বুড়াইচ ইউনিয়নের সম্মেলন ইউনিয়নের হেলেঞ্চা কঠুরাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আমির হোসেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম এনায়েত।

সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আমির হোসেনকে সভাপতি ও আবুল কাশেম এনায়েতকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

সন্ধ্যা সাতটায় টগরবন্দ ইউনিয়ন আওয়ামিলীগের সম্মেলন ইউনিয়নের চরডাঙ্গা বাজারে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহবায়ক মো. জালাল উদ্দীন ফকির। পরিচালনা করেন যুগ্ম আহবায়ক কাজী কামরুল ইসলাম। সম্মেলনে মো. জালাল উদ্দীন ফকিরকে সভাপতি ও কাজী কামরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

তিনটি সম্মেলনেই প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম আকরাম হোসেন। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘৯৯ ভাগ আওয়ামী লীগ ভোটারের উপজেলায় এতোদিন আওয়ামী কর্মিদের মধ্যে কোন রাজনৈতিক সংশয় বা বিভাজন কিংবা বিবেধ ছিলনা। কিন্তু গত সংসদ নির্বাচনের পর থেকে কোন এক কুচক্রীমহল এই নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিকে বিভেদ রাজনীতিতে পরিণত করে ফেলেছে।’

তিনি দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের কথা উল্ল্যেখ করে বলেন, ‘তার নির্দেশিত দলীয় গঠন ও কাঠামোর বৈধ কমিটিই একমাত্র কমিটি। এ কমিটির বাইরে যারা অবৈধ কমিটি গঠন করে এ উপজেলায় দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করছেন, তাদের প্রত্যাখ্যান করুন। তারা দলের ক্ষতি করতেই এই চক্রান্ত করে যাচ্ছে।’

আলফাডাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের আহবায়ক ও পৌর মেয়র সাইফুর রহমান সাইফার বলেন, ‘একটি কুচক্রীমহল  মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সংগঠন আওয়ামী লীগকে আজ রাজাকার-আলবদর, জঙ্গী ও সন্ত্রাসের ধারক বাহক জামাত-বিএনপি, ছাত্রশিবির, ছাত্রদলের লোকজনের রাজনৈতিক দলে পরিণত করছে।’

তিনি কোন এক জনপ্রতিনিধির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘তিনি জামাত-শিবিরের চিহ্নিত কর্মীকে তার এপিএস করেছেন।অথচ দীর্ঘদিন যারা জামাত-শিবিরের জুলুম নির্যাতনকে উপেক্ষা করে এতোদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আলফাডাঙ্গাকে শতভাগ আওয়ামী লীগের ঘাঁটি বানিয়েছে, তাদেরকেই বঞ্চিত করে দলের সাথে প্রতারণা করছেন।’

অন্যান্যদের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুর রউফ তালুকদার, আশরাফ উদ্দিন তারা, ইকবাল হাসান চুন্নু, যুগ্ম-সম্পাদক কামাল আতাউর রহমান, পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক সৈয়দ আশরাফ আলী বাশার, সাবেক উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আহসান উদ্দৌলা রানা, উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এনায়েত হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও পৌর কমিশনার মিজানুর রহমান মিজান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম তৌকির আহমেদ ডালিম, জেলা যুবলীগের সদস্য আসিপ মাহমুদ শাহীন, কামরুজ্জামান কদর, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য তরিকুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তন্ময় উদ্দৌলা, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা মুজাহিদুল ইসলাম নাঈম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও উপজেলা আওয়ামী লীগ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ  এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মী, সাধারণ জনগণ ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এসএ/