নোবেল শান্তি পুরস্কারে এগিয়ে কিশোরী গ্রেটা থানবার্গ

অভিযাত্রা ডেস্ক : প্রতিবছরের মতো এবছরও নোবেল পুরস্কারের এই ক্যাটাগরি নিয়েই সবার আগ্রহ বেশি। শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকালে নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। নোবেল শান্তি পুরস্কারে উঠে আসছে সুইডিশ বংশোদ্ভূত দুনিয়া কাঁপানো জলবায়ুকর্মী গ্রেটা থানবার্গের নাম। 

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার জোর সম্ভাবনা আছে তার। তার পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে অনলাইনে বাজিভিত্তিক ওয়েবসাইটগুলো বড় অঙ্কের বাজিও ধরেছে তাকে নিয়ে। জলবায়ু পরিবর্তন রোধে ভূমিকার দাবিতে ২০১৮ সালে সুইডেনের পার্লামেন্টের বাইরে অবস্থান নেওয়া শুরু করেন স্কুল শিক্ষার্থী গ্রেটা থানবার্গ। 

তার এই অবস্থানের মধ্য দিয়ে দুনিয়াজুড়ে বেগবান হয় জলবায়ু আন্দোলন। তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে এই আন্দোলনে শামিল হয় লাখ লাখ মানুষ। গত সপ্তাহে জাতিসংঘ আয়োজিত এক সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনরোধে বিশ্বনেতারা যথাযথ ভূমিকা রাখছেন না অভিযোগ করে তাদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তোলেন এই জলবায়ুকর্মী।  

ইতোমধ্যে নোবেল পুরস্কারের বিকল্প হিসেবে পরিচিত সুইডেনের ‘রাইট লাইভলিহুড অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন গ্রেটা। এ ছাড়া অ্যামনেস্টির শীর্ষ সম্মানও পেয়েছেন এই জলবায়ুকর্মী। তবে বিশেষজ্ঞরা এখনই তার ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেওয়ার ব্যাপারে একটু সাবধানী। 

অসলোর পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালত হেনরিক উর্দাল বলেন, তার পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। আর সেজন্য দুটি কারণ সামনে এনেছেন তিনি। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন যে সশস্ত্র সংঘাতের অন্যতম কারণ তা এখনও প্রতিষ্ঠিত নয়। একইসঙ্গে তার এই বয়সে পুরস্কারটি বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। হেনরিক বলেন, পাকিস্তানি কিশোরী মালালার মতো তাকে ভাগ করে পুরস্কার দেওয়া হতে পারে। 

নরওয়ের ইতিহাসবিদ আসলি স্ভিনও একইরকম কথা বলছেন। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই সে একজন আন্তর্জাতিক তারকা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধিতা করে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সেই সবচেয়ে দারুণ আন্দোলন করছে। কিন্তু তার জন্য বড় বাধা তার বয়স। মাত্র ১৬ বছর বয়সে নোবেল পাওয়াটা খুবই অবাক করা ব্যাপার হবে’।   

তবে স্টকহোম পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড্যান স্মিথ তার ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি মনে করেন, এই পুরস্কারের অন্যতম দাবিদার গ্রেটা। তিনি বলেন, ‘প্রথমত আমি মনে করি ও যা করে দেখিয়েছে তা দুর্দান্ত। আর জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপারটা নিরাপত্তা ও শান্তির সঙ্গে জোরালোভাবে সম্পর্কিত’। 

এদিকে গ্রেটা থানবার্গ নিজে নোবেল পুরস্কার নিয়ে কি ভাবছে তা জিজ্ঞাসা করা হয়। সুইস সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএসকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেছিলেন, এই পুরস্কার আন্দোলনের জন্য সম্মানের। তবে তারা পুরস্কারপ্রাপ্তির আশায় এই আন্দোলন করছেন না।
 

/এসিএন