টুইটারে গোয়েন্দা নজরদারিতে বিপাকে সৌদি অ্যাকটিভিস্টরা

Published: Sun, 24 Nov 2019 | Updated: Sun, 24 Nov 2019

অভিযাত্রা ডেস্ক : সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট টুইটারে সৌদি সরকারের গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনায় বিপাকে পড়েছেন দেশটির অ্যাক্টিভিস্টরা। অভিযোগ উঠেছে, সৌদি রাজপরিবারের সমালোচকদের নজরে রাখতে টুইটারের দুই কর্মীকে গুপ্তচর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল রিয়াদ।

এমন অভিযোগ সামনে আসার পরই অস্বস্তিতে পড়েন অ্যাক্টিভিস্টরা। অনেকেই মিডল ইস্ট আই-কে বলেছেন, যে হাজার হাজার টুইটার ব্যবহারকারীর ডাটা হাতিয়ে নিতে রিয়াদ সমর্থ হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে; তার মধ্যে তারাও রয়েছেন বলে আশঙ্কা তাদের।

২০১৯ সালের নভেম্বরের গোড়ার দিকে ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল কোর্টে টুইটারে কর্মরত ওই দুই সৌদি গুপ্তচরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। অভিযোগে বলা হয়, তারা সৌদি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ একজন কর্মকর্তার কাছে ছয় হাজারেরও বেশি টুইটার অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করেছে।

২০১৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে এ কাজ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এবং দেশটির বিচার বিভাগকে ধন্যবাদ জানিয়েছে টুইটার কর্তৃপক্ষ।

এদিকে টুইটারের অভ্যন্তরে সৌদি সরকারের এই গুপ্তচরবৃত্তির ফলে রাষ্ট্রযন্ত্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা করছেন অ্যাক্টিভিস্টরা। কেননা, সরকার তাদের আইপি অ্যাড্রেসসহ অন্যান্য তথ্য হাতিয়ে নেওয়ায় কর্তৃপক্ষের ধরপাকড়ের শিকার হওয়া এমনকি গুম হয়ে যাওয়ার শঙ্কার কথাও জানিয়েছেন অনেকে।

মার্কিন আইনজীবীদের বরাত দিয়ে জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডি ডব্লিউ জানিয়েছে, সৌদি সরকারের সমালোচকদের তথ্য দেওয়ার বিনিময়ে উপঢৌকন হিসেবে কয়েক হাজার ডলার পেয়েছেন টুইটারের  দুই কর্মী। এ ছাড়া চমৎকার ডিজাইনের ঘড়িসহ আরও নানা অভিজাত উপহার সামগ্রী পেয়েছেন তারা।

টুইটারের ওই দুই কর্মীর একজন সৌদি নাগরিক। তার নাম আলী আলজাবারাহ। অন্যজন মার্কিন নাগরিক। তার নাম আহমেদ আবুআমু। সৌদি রাজ পরিবারের সাবেক কর্মী আহমেদ আলমুতাইরির মাধ্যমে তারা সৌদি সরকারকে তথ্য দিয়েছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

আলজাবারাহ ও আবুআমুর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধন ছাড়া সৌদি আরবের এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। আবুআমুকে ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে আলজাবারাহ ও আলমুতাইরি বর্তমানে সৌদি আরবে রয়েছেন।

টুইটারের ওই দুই সাবেক কর্মী রাজপরিবারের সমালোচকদের টুইটার অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইমেইল অ্যাড্রেস ও আইপি ঠিকানার তথ্য সৌদি সরকারকে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আইপি অ্যাড্রেসের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক গবেষক অ্যাডাম কুগল জানিয়েছেন, সৌদি আরবের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই সক্রিয় টুইটার ব্যবহারকারী। এটিই সে দেশের প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

যে টুইটার ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে তাদের মধ্যে একজনের ফলোয়ার সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। তিনি সৌদি সরকারের সমালোচক হিসেবে পরিচিত। একজন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বও আছেন এই তালিকায়।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের রাষ্ট্রীয় আইনি পদক্ষেপের বাইরে দুই টুইটার ব্যবহারকারী স্বতন্ত্রভাবে এ নিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তারাও ওই গুপ্তচরবৃত্তির শিকারে পরিণত হয়েছেন। ওই দুইজনের একজনের একটি বেনামি অ্যাকাউন্ট ছিল; যেটিকে বলা হতো ‘দ্য সৌদি ভার্সন অব উইকিলিকস’। অন্য অ্যাকাউন্টটি ছিল কানাডায় নির্বাসিত ওমর আবদুলআজিজ নামের ভিন্নমতাবলম্বী এক সৌদি নাগরিকের।

ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর এভাবে ভিন্নমতাবলম্বীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের ঘটনা সামনে আসায় শঙ্কিত অ্যাক্টিভিস্টরা।

যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে বসবাস করছেন আমানি আল আহমাদি। সৌদি-আমেরিকান এই নারীবাদী মিডল ইস্ট আই-কে বলেন, আমরা সব সময় ভেবে থাকি, এ ধরনের ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গেই হয়ে থাকবে। কিন্তু এখানে ছয় হাজার অ্যাকাউন্ট! এমনকি অন্য অ্যাক্টিভিস্টরাও আমাকে প্রশ্ন বলছে, কেউ কি জানেন যে আমাদের মধ্যে কেউ এই তালিকায় আছেন কিনা? সূত্র: মিডল ইস্ট আই, ডি ডব্লিউ।

এসএ/