গ্রামীণফোনের কাছে পাওয়া বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ পিছিয়েছে

Published: Mon, 18 Nov 2019 | Updated: Mon, 18 Nov 2019

অভিযাত্রা ডেস্ক : গ্রামীণফোনের কাছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিটিআরসির নিরীক্ষা দাবির বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ পিছিয়েছে। বিষয়টি আগামী রোববার পরবর্তী আদেশের জন্য রেখে আপিল বিভাগ গ্রামীণফোনকে বলেছে, এই সময়ের মধ্যে তারা যেন মধ্যস্ততার জন্য অন্য কোনো ফোরামে না যায়। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের আপিল বেঞ্চ সোমবার (১৮ নভেম্বর) এ আদেশ দেন।

আদালতে বিটিআরসির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাহবুবে আলম ও খন্দকার রেজা-ই-রাকিব। গ্রামীণফোনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শেখ ফজলে নূর তাপস, এ এম আমিন উদ্দিন ও মোহাম্মদ মেহেদী হাসান চৌধুরী, শরীফ ভূঁইয়া ও আইনজীবী তানিম হোসেইন শাওন।

গ্রামীণফোনের কাছে নিরীক্ষা আপত্তি দাবির ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করে আসছে বিটিআরসি। গত সপ্তাহে গ্রামীণফোনের আইনজীবী আদালতে বলেছিলেন, তারা শর্তসাপেক্ষে ২০০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে রাজি। এর বিরোধিতা করে বিটিআরসির আইনজীবী মাহবুবে আলম ‘পাওনা’ আদায়ে বিটিআরসির নোটিস স্থগিত করে দেওয়া হাই কোর্টের আদেশটি স্থগিত করার আরজি জানান। আদালত তাতে সায় না দিয়ে বিষয়টি সোমবার আদেশের জন্য রেখেছিল।

আইনজীবী তাপস গত সপ্তাহের শুনানিতে বলেন, ‘গ্রামীণ ফোন ও রবির সঙ্গে গত ৩ অক্টোবর অর্থমন্ত্রী ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রীর সমঝোতা বৈঠকে বিটিআরসির আরোপিত প্রতিবন্ধকতাগুলো তুলে নেওয়াসহ বিভিন্ন শর্তে ২০০ কোটি টাকা পরিশোধের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, গ্রামীণফোন সেভাবেই এগোতে চায়।’

প্রস্তাবের শর্তগুলো হলো: মাহবুবে আলম এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে সেদিন আদালতকে বলেন, অন্তত পাওনার ৫০ ভাগ অর্থ গ্রামীণফোন জমা দিতে হবে। এরপর বাকি অর্থ পরিশোধের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। সে সময় তিনি বিটিআরসির বিপক্ষে যাওয়া হাই কোর্টের আদেশ স্থগিতের আরজি জানালে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বিষয়টি নমনীয়ভাবে দেখতে হবে।’

বিটিআরসি বলছে, গ্রামীণফোনের কাছে নিরীক্ষা আপত্তির ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকার পাশাপাশি রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে তাদের। কয়েক দফা চেষ্টায় সেই টাকা আদায় করতে না পেরে লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়ে নোটিস পাঠানো হয় দুই অপারেটরকে।

বিটিআরসির দাবি করা টাকার ওই অঙ্ক নিয়ে আপত্তি তোলে গ্রামীণফোন ও রবি। বিটিআরসি সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তিতে রাজি না হওয়ায় দুই অপারেটর আদালতের দ্বারস্থ হয়। তবে পরে অর্থমন্ত্রীর উদ্যোগে গ্রামীণফোন ও বিটিআরসির কর্মকর্তাদের মধ্যে দুই দফা বৈঠক হলেও তাতে সফলতা আসেনি।

এরপর গ্রামীণফোনের টাইটেল স্যুট (স্বত্ত্বের মামলা) নিম্ন আদালত গ্রহণ করলেও এর অধীনে বিটিআরসির দাবি আদায়ের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন গত ২৮ অগাস্ট খারিজ করে দেয়। ওই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে গ্রামীণফোনের আপিলটি গ্রহণ করে গত ১৭ অক্টোবর বিটিআরসির নিরীক্ষা আপত্তি দাবির ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দেয় হাই কোর্ট।

ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে বিটিআরসি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করলেও বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান তাতে সাড়া না দিয়ে আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এরপর ২৩ অক্টোবর হাই কোর্টের আদেশর বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে বিটিআরসি।

এসএ/