পোশাকের যত কথকতা

Published: Wed, 23 Sep 2020 | Updated: Wed, 23 Sep 2020

অভিযাত্রা ডেস্ক: সভ্যতার সূচনায় মানুষ তেমন পোশাক পরতো না। পশুর চামড়া, গাছের বাকল বা পাতাই ছিল তাদের লজ্জা ঢাকার সম্বল। ধীরে ধীরে সৃজনশীল মানুষ একসময় তুলা থেকে সুতা তৈরি করতে শিখলো। সেই সুতা দিয়ে প্রচলন হলো বোনা কাপড়ের পোশাক।

অথচ আজকের দিনে মানুষের মৌলিক চাহিদার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ‘বস্ত্র’ বা পোশাক। রঙ ও ভিন্নতার কারণে পোশাক সংস্কৃতির চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ বিষয় ও উপলক্ষ প্রকাশ করতে পোশাক ব্যবহার হচ্ছে। বিয়ের, শোকের ও ঋতুভিত্তিক পোশাক স্বতন্ত্র বিষয় প্রকাশ করে। খেলোয়াড়দের জার্সি, সামরিক পোশাক, স্কুলের ইউনিফর্মÍ এসব বৈচিত্র্যকে বাড়িয়ে তুলছে।

ঈদ-পূজা সামনে রেখে বাজারজুড়ে নানা রকম ও বর্ণের পোশাকের সমারোহ দেখা যায়। উৎসবের অনুষঙ্গ হিসেবে নতুন পোশাক কেনা এখন আনন্দ ও সামাজিকতার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যারা নিত্যনতুন বিচিত্র পোশাকের খোঁজ করেন, তাদের জন্য টেক্সাসের অস্টিন শহরের বাসিন্দা বিল ব্ল্যাক তৈরি করেছেন বিশেষ ধরনের পোশাক। বিল ব্ল্যাক পেশায় একজন হেয়ারড্রেসার। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময়ই তিনি সংগ্রহ করে নেন তার বিচিত্র পোশাক তৈরির উপকরণ। কেটে ফেলা চুল দিয়ে বিল তৈরি করেন দর্শনীয় সব পোশাক। সেসবের চাহিদার দিকে নজর দিয়ে এ ‘চুল-পোশাকের’ দামও বেশ চড়া। মাত্র ৩৫০ ডলার! 

জাপানি ডিজাইনার উনসেতসে ফুরুকাওয়া যে বিশেষ পোশাকগুলো তৈরি করেছেন, তাতে সাধারণ সুতার বদলে ব্যবহার করা হয়েছে রিসাইকল করা প্লাস্টিকের বোতল থেকে তৈরি সুতা। এছাড়া তিনি ঝুড়ি বা চেয়ার তৈরির বেত থেকে প্রস্তুত সুতাও ব্যবহার করেন পোশাক তৈরিতে।

জাপানের আরেকজন অধ্যাপক তৈরি করেছেন বিচিত্র আরেকটি পোশাক। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুসুমু অচি বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে যে কোটাটি বানিয়েছেন, সেটা পরলে প্রায় অদৃশ্য হওয়া যাবে। পোশাকটির ওপর আশপাশের দৃশ্য এমনভাবে প্রতিফলিত হয় যে, পরিধানকারীকে প্রায় দেখাই যায় না।  নিউইয়র্ক শহরের এক ফ্যাশন শোয় একবার প্রদর্শিত হয়েছিল একটি বিশেষ পোশাক। সেটির বাইরের দিকে ইলেকট্রোফোরেটিক কালি দিয়ে তৈরি একটা তাপনিয়ন্ত্রিত আবরণ ছিল। আশপাশের দৃশ্য পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পোশাকটির রঙও পরিবর্তিত হতো।

নিউজাসির্র ক্লিফটন শহরের একটি কোম্পানি রাবারের তৈরি এক ধরনের বিশেষ পোশাক তৈরি করে থাকে। কোনো কারণে পরিধানকারীর শরীর উত্তপ্ত হয়ে উঠলেই পোশাকটি আলো ছড়াতে থাকে। আলোর বিচ্ছুরণ ঘটে এ রকম আরেকটি পোশাক তৈরি করে প্যারিসের একটি কোম্পানি। তবে রাবারের সুতা নয়, তারা রেমশি ও পশমি পোশাক তৈরি করে। তবে সেটা স্বাভাবিক উপায়ে নয়। যে রশেম বা পশমের তন্তু দিয়ে তারা কাপড় তৈরি করে, তার ভেতরেই মিশিয়ে দেয় সূক্ষ্ম হীরের ফালি। এর ফলেই পোশাকটি দ্যুতিময় হয়ে ওঠে।  

সিল্ক ব্যবহার করে বিশেষ একটা পোশাক তৈরি করেছেন থাইল্যান্ডের রাজামানকালা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষকরা। এটি তারা বিশেষভাবে তৈরি করেছেন পুলিশ বাহিনীর জন্য। কারণ সিল্কের তৈরি পোশাক হলেও সেগুলো বুলেটপ্রুফ!

রাস্তায় চলতে অনেক সময় নানা রকম বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। বিশেষ করে নারীরা সমস্যায় পড়েন বেশি। তাদের কথা ভেবে একটা বিশেষ পোশাক তৈরি করেছেন ইয়োলিতা নুগেন্ট ও অ্যাডাম হুইটন। এ পোশাক দেখতে অনেকটা জ্যাকেটের মতো। এ বিশেষ জ্যাকেট পরা অবস্থায় কেউ আক্রান্ত হলে পোশাকটিই আক্রমণকারীকে ৮০ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক শক দিতে পারবে।

দেশে বোধহয় এ ধরনের পোশাক ভালো বাজার পাবে। কাগজ, প্লাস্টিক কিংবা খাবরের তৈরি পোশাকের কথাও অহরহ শোনা যায়। সেই সঙ্গে নানা রঙ আর নকশা তো আছেই। তাহলে এবার বেছে নিন আপনার উৎসবের পোশাক । 

ও/এসএ/