ফের বাড়ছে মাস্কের দাম

Published: Tue, 24 Nov 2020 | Updated: Tue, 24 Nov 2020

অভিযাত্রা ডেস্ক : করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে মাস্কের দাম বাড়িয়ে দেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। তারপর ধীরে ধীরে তা স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে আসে। তবে এখন শীত বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ থেকে বাঁচার অন্যতম হাতিয়ার মাস্কের দাম।

মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, পূর্বের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে মাস্ক।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাস্ক পরার বিষয়ে সরকারের কড়াকড়ি আরোপের পর থেকেই এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী মাস্কের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে ক্রেতারা পূর্বের চেয়ে বেশি দামে মাস্ক ক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছেন।

পল্টনে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনের সামনে পাইকারি ও খুচরা মাস্ক বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বললে তারা স্বীকার করেন মাস্কের দাম আগের চেয়ে বেড়েছে। তবে করোনা থেকে বাঁচার অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রীর দাম পূর্বের মতোই রয়েছে বলেও জানান তারা।

বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি চাহিদা সার্জিক্যাল মাস্ক এবং এন-৯৫ মাস্কের। বিক্রেতারা জানান, আগে পঞ্চাশটির এক প্যাকেট সার্জিক্যাল মাস্ক ৭০ টাকা, এবং দশটির এন-৯৫ মাস্কের প্যাকেট ২২৫ টাকা পাইকারি ক্রয় মূল্য ছিল। বর্তমানে সার্জিক্যাল মাস্ক ১২৫ টাকা থেকে ১৫০ টাকা এবং এন-৯৫ মাস্ক ২৫০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে তারা বেশি দামে বিক্রি করছেন।

মাস্কের দাম বেশি কেন জানতে চাইলে বিএমএ ভবনের সামনে মাস্কের পসরা সাজিয়ে বসা নবীন হোসেন বলেন, 'সরকার মাস্ক পরার বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। তাই এখন মাস্কের চাহিদা আগের চেয়ে বেড়েছে। আগে ঢাকায় মানুষ বেশি মাস্ক ব্যবহার করতো। কিন্তু বর্তমানে গ্রামে এবং মফস্বল এলাকাতেও মানুষ মাস্ক পড়ছে। তাই মাস্কের চাহিদা পূর্বের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। চাহিদা বাড়ার কারণে মাস্কের দামও বেড়েছে।’

বিএমএ ভবনের সামনে দাঁড়ানো মাস্ক বিক্রেতা রুবেল হোসেন এবং দুলালও স্বীকার করেন বর্তমানে মাস্কের দাম পূর্বের তুলনায় বেশি।

পল্টনের তোপখানা রোডে মাস্ক কিনতে আসা কামরান হোসেনের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, সার্জিক্যাল, এন-৯৫ এবং কাপড়ের মাস্কসহ প্রতিটা মাস্কের দাম আগের থেকে বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী যেদিন থেকে সবাইকে মাস্ক পরতে বলছেন, সেদিন থেকেই অসাধু ব্যবসায়ীরা মাস্কের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

দাম বেশি কেন জানত চাইলে দিশারী পরিবহনে ভ্রাম্যমাণ মাস্ক বিক্রেতা রাসেল আহমেদ বলেন, ‘আগে আমি সার্জিক্যাল মাস্ক ৫টা ১০ টাকায় বিক্রি করছি। এখন ২টা ১০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এন-৯৫ মাস্ক ৩০ টাকায় বিক্রি করতাম, এখন ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করছি। কাপড়ের মাস্ক ৩০ টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে। আমাদের কেনা বেশি দামে, তাই বিক্রিও একটু বেশি দামে করতে হচ্ছে। কম দামে কিনতে পারলে আবারও আমরা কম দামে বিক্রি করবো।’

মাস্ক কিনতে করতে আসা ক্রেতাদের দাবি, করোনা ভাইরাসকে পুঁজি করে কেউ যেন অবৈধ সুযোগ গ্রহণ না করতে পারে এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেওয়া উচিত। 

ও/এসএ/