পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২২ বছর

Published: Mon, 02 Dec 2019 | Updated: Mon, 02 Dec 2019

অভিযাত্রা ডেস্ক: পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২২ বছর পূর্তি আজ। তবে এই দীর্ঘ সময়ে তিন পার্বত্য জেলায় পরিস্থিতির কতটুকু উন্নতি হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি সংগঠনগুলোর মধ্যে। চুক্তির ফলে অবহেলিত জনপদের জীবনমানে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও, অনেকে বলছেন এখনো পরিপূর্ণ শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি পাহাড়ে।
 
চুক্তির আলোকে স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান পার্বত্য জেলা পরিষদ নির্বাচন আজও অনুষ্ঠিত হয়নি। সরকার মনোনীত কমিটির মাধ্যমে পরিষদগুলো পরিচালিত হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়ে ভোটার তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে পরিষদের নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচনও সম্ভব হচ্ছে না।

পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সশস্ত্র শান্তি বাহিনীর সঙ্গে শান্তি চুক্তি করে আওয়ামী লীগ সরকার। দীর্ঘ পথচলায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, শিক্ষার প্রসার, কর্মসংস্থান সৃষ্ট, বিদ্যুৎ সরবরাহ, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ কোনও দিক দিয়েই পিছিয়ে নেই, এক সময় অন্ধকারে ডুবে থাকা এই জনপদ। তারপরও কোথাও যেন একটা অতৃপ্তি থেকেই গেছে এখানকার মানুষের কাছে।

শান্তি চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ে সব জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মনে করেন সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার। 

তবে শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন না হলে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে বলে মনে করেন ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর মানুষগুলো।

তবে পার্বত্য জেলাগুলোর উন্নয়নে শান্তি চুক্তিকে মূল চালিকা শক্তি হিসেবে দেখা হলেও, সব ধারা বাস্তবায়িত না হওয়ায় অসন্তোষ রয়েছে চুক্তিতে স্বাক্ষরকারীদের মাঝেও।

রোববার (০১ ডিসেম্বর) আয়োজিত এক সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির শীর্ষ নেতা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা অভিযোগ করে বলেন, সরকার চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন করেনি। পাহাড়ে এখনও অস্ত্রবাজি, খুন, অপহরণ ও চাঁদাবাজি হচ্ছে। আর এর প্রধান শিকার হচ্ছে পাহাড়ের সাধারণ অধিবাসীরা।

-এমজে