শিশুর ভুবন - ছড়া কবিতা

  • মমতাজ বেগম

    রোজ রোজ ভোরে ওঠা
    এ যে ভারী ঝামেলা,
    মা ডাকেন কাক ভোরে
    উঠে পড় পামেলা।
    চোখ ভরা ঘুম তবু
    শুয়ে থাকা যাবেনা,
    দাঁত মাজো,মুখ ধোও
    রোজ ভালো লাগেনা।
    দ্রুত হাতে তড়িঘড়ি
    মা ব্যাগটা গুছিয়ে,
    টিফিনের বাকসোটা
    নিমিষে দেন সাজিয়ে।
    ব্যাগটাকে মনে হয়
    পিঠে চেপে আছে যম,
    হাতের পানির ফ্লাক্স 
    সেও তো নয় কম।
    পিরিওড গুলো যেন
    যায় না তাড়াতাড়ি,
    প্রতিদিনই ম্যাম শুধু 
    করেন অতি বাড়াবাড়ি।
    রোজকার পড়াগুলো
    রেডি থাকা চাই
    তা না হলে ম্যাম
    রেগেমেগে কাই ।
    ছুটির ঘন্টা বাজে
    ঢং ঢং ঢং,
    দারোয়ান মনে হয়
    রেগে যেন টং ।
    এরপর  কোচিং ক্লাস
    হয় না পড়া শেষ
    পড়াশোনা না থাকলে
    হোত যেন বেশ।
    পরী হয়ে উড়ে যেতাম
    স্বপ্নের দেশে,
    হেসে খেলে কাটিয়ে দিন
    ফিরতাম শেষে।
    পামেলার স্বপ্নগুলো
    হয় না যে সত্যি,
    দিনটাকে মনে হয়
    রূপকথার দত্যি।

  • মমতাজ বেগম 

    শীত শীত ভাব তবু 
    শীত নয় ভারী,
    শুরু হলো কাপড়ের 
    যত ঝকমারি।
    বাবা-মার মুখে হাসি 
    মাঠ ভরা ধান,
    বুড়ো দাদু খুশি ভারী
    মুখে তার পান।
     আকাশটা নীল নিয়ে
     মেলে তার আঁখি।
    ঝাকে ঝাকে উড়ে এল
    পরিযায়ী পাখি।
    খোকা-খুকুর স্বপ্ন
    হয়ে ওড়ে ঘুড়ি
    উৎসবে উন্মুখ
    শেফালির কুড়ি।
    শিশির বিন্দু গায়ে মেখে
    হেসে ওঠে ঘাস,
     নীল জলে সাতরায়
    এক ঝাঁক হাঁস।
    হেমন্ত বলে ভাই
    আসিতেছে শীত,
    কুড়িরা মাথা নেড়ে
    গায় সুখে গীত।
    মাঠভরা ধান আর
    চোখ ভরা হাসি।
    বাংলার হেমন্ত ঋতু
    বড় ভালোবাসি।

  • মমতাজ বেগম

    শীত এলো, এলো শীত
                       খোকা-খুকু কাঁপছে,
    ভয়ে ভয়ে রবি মামা
                        দেরি করে উঠছে
    খেজুরের গাছ গুলো
                       রসে টইটুম্বুর,
    হাসিমুখে রবি মামা
                        ছুড়ে দিল রোদ্দুর।
    শীত সে যে  ভারি মজা
                        মা পিঠে বানাল,
    হৈ হৈ রৈ রৈ
                       খোকা-খুকু ছুটল।
    পরীক্ষা শেষ তাই
                       ইসকুল বন্ধ,
    শীতের ও আছে ভাই
                       অপরূপ ছন্দ।
    ফুটেছে চন্দ্রমল্লিকা,
                       গাঁদা আর ডালিয়া,
      সূর্যমুখী এলো ভাই
                      একগাল হাসিয়া।
    শীতের বুড়ি ধুরথুড়ী
                        কম্বল গায়
    পড়া রেখে খোকা খুকু
                      মামা বাড়ি যায়।
    খুনখুনে বুড়ো ওই,
                        খুক খুক কাশছে,
    শীত এলো,এল শীত
              রবি মামা কাঁপছে।

  • মমতাজ বেগম

    নীল নীল আকাশে কবুতর উড়ছে,
    টুপটাপ শরতের শিউলি ঝরছে।
    চুপচুপ মৌমাছি গুনগুন
    গাইছে,
    ফুসফুস রেলগাড়ি তড়িঘড়ি
    ছুটছে।
    মাঠে মাঠে ছুটোছুটি
    খোকা-খুকু খেলছে,
     

    ময়ূর টা মেলে পেখম তা ধিন
    তানা নাচ্ছে।
    গোয়ালে দুধেল গাই হাম্বা
    ডাকছে,
    পাপড়ের দোকানির তেলে পাপড়
    ভাবছে।
    একতারা হাতে নিয়ে বাউল
    নাচছে,
    পায়ে তার ঘুঙ্গুরটা তালে
    তালে বাজছে।

    বাংলার পথে পথে সুখ পাখি
    উড়ছে,
    দুঃখকে দূরে ফেলে কাশবন
    দুলছে।

  • ওয়াদিয়া

    দিনের পড়ে দিন কেটে যায়,

    টেনশনে চুল পেকে যায়।

    বাবার কাছে চুল নিয়ে যাই,

    বাবা বলে, তোমার হেয়ার কালার চাই?

    মায়ের কাছে চুল নিয়ে যাই,

    মা বলে যৌবনেতে চুল পেকে যায়!

    কোচিং, প্রাইভেট ,স্কুলে যাই,

    বাড়িতে এসে পা লঠে যায়।

    বাড়ির কাছে দেয় হানা বোন,

    রেজাল্ট জানলে মৃত্যুবরণ!

    আমি পড়ি সপ্তম শ্রেণীতে,

    বন্ধুরা চায় পড়া জানিতে –

    মাথায় দ্বিধা নাই বস্তা পড়িতে।

    হেলিতে, দুলিতে , হাসিতে হাসিতে

    বলি আমি জানি না।

    বড় শরম পেয়ে ঢেকে ফেলি মাথা -

    মা, গো এমন চাপে মাথায় বস্তা চাপা,

    চাপে চাপে হাপা আর হাপা।

     

    ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় 

    সপ্তম শ্রেণী

  • মো. আলমগীর

    এক দুই তিন
    রাত হলো দিন
    দশ এগার বার
    জামা কাপড় পর

    ঘুম দিবনা সকালে 
    খেতে দাও মা আমাকে 
    দশটা বেজে গেল
    যাব পাঠশালায়

    দেরি হলে রাগ হয় 
    গুরু মহাশয় 
    পাশে বসে থাকি আমি 
    লাজে অতিশয়।

    এসএ/

  • নায়না অনন্যা

    আলোকিত পৃথিবীতে
    আলোকিত সমাজে,
    আলোকিত হও তুমি শিশু ।
    বৈরী পৃথিবী ধুয়ে মুছে যাক,
    সম্ভাবনা তোমায় বলুক কিছু,
    তুমি আগামী দিনের শিশু ।
    এক তুমি পারো সব কিছু ।

  • অপু চৌধুরী

    আজকে তারা বাঁধন হারা
    করতে যাবে খেলা
    দেখতে যাবে স্টেডিয়াম
    প্রাণের গ্রন্থমেলা
    কেউবা কিনবে গল্প গ্রন্থ
    কিংবা ছড়ার বই
    কেউবা আবার বিজ্ঞান গ্রন্থ
    বাঁধাতে হইচই।
    আপন মনে ভাবছে কেউবা
    লেখক কেমন হয়
    লেখক মানে বিশাল জ্ঞানী
    সাধারণতো নয়।
    আজকে তারা পূর্ণ করবে
    মনের বড় সাধ
    লেখক পেলে সেলফি তুলে
    ভাঙবে খুশির বাঁধ।
    আজকে তারা বাঁধন হারা
    যাবে গ্রন্থমেলা
    জেনে নিতে কেমন লেখক
    কাটায় তাদের বেলা!

  • প্রিয়ান্তি বড়ুয়া পিউ

    ময়না পাখি ময়না পাখি,
    আমার কথা শুন।
    পিউ বলে ডাকিস যদি,
    দেবোই তোকে মন।
    সোনার নূপুর পরিয়ে দেবো,
    তোর দুটো রাঙা পায়।
    আদর করে পিউ বলে,
    ডাক নারে আমায়।
    তুই কি আমার বন্ধু হবি,
    অলস দুপুর বেলায়।
    তোকে নিয়ে ঘুরতে যাবো,
    বৈশাখি ওই মেলায়।

  • সাকিব আহমেদ তুষার

    ছোট্ট শব্দ মা
                এ জগতে তার কারো সাথে
    হয় না তুলনা।

    জন্ম দিয়েছো মা
                সহ্য করে অনেক যাতনা
    তাই তো তুমি সৃষ্টির কাছে সেরা অনন্যা।

    খোদার পরে সকল ভক্তি
    তোমারই তো হয় প্রাপ্তি
    জান্নাত আছে তোমায় পায়ে
    তাই তো ছিল নবীর উক্তি

    শক্তি দিয়েছো
    সাহস দিয়েছো
    দিয়েছো প্রেরণা

    সবার চেয়ে আপন তুমি মা
    আমার প্রিয় মা।

     

    মতিঝিল সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়
    দ্বাদশ শ্রেণি